অবসরের জন্য জমানো টাকা ইনভেস্ট (Invest) করবো কীভাবে???




 

আগের আর্টিকেলগুলোতে আমরা জেনেছি কীভাবে কর্মজীবন থেকে অবসর নেয়ার জন্য নিজেকে তৈরি করতে হয়, কীভাবে অবসরের পরিকল্পনা করতে হয় এবং কীভাবে সেই অনুযায়ী টাকা জমাতে হয়। আমরা বার বার একটা কথা শুনেছি যে টাকা শুধু জমালেই হবে না, সেই টাকা ইনভেস্টও করতে হবে যাতে আমার অবসর-এর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় কারণ শুধুমাত্র সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে আমার চাহিদা পূরণ নাও হতে পারে। এখন কথা হচ্ছে টাকা যে ইনভেস্ট করবো, সেটা করবো কীভাবে! সিরিজের পরের অংশগুলো থেকে আমরা টাকা ইনভেস্ট করার খুঁটিনাঁটি তথ্য জানবো।

 

সাধারনত তিনভাবে টাকা ইনভেস্ট করা যায়- স্টক (Stocks), বন্ড (Bond) এবং ক্যাশ(Cash)। এগুলোকে “এ্যাসেট ক্যাটাগরি” (Asset Category) বলে। তবে আপনার জন্য সুবিধা হবে যদি আপনি একটি ক্যাটাগরি বেছে না নিয়ে সবগুলো ক্যাটাগরির সংমিশ্রণ ঘটান, এই উপায়টিই সবচেয়ে নিরাপদ। অর্থাৎ, আপনি স্টক ও বন্ডের সংমিশ্রণে ইনভেস্ট করবেন পাশাপাশি নিজের কিছু টাকা (ক্যাশ) জমিয়েও রাখবেন। অনেকে “হার্ড এ্যাসেট” (Hard Asset) যেমন রিয়েল এস্টেট বা স্বর্ণ কেনার মাধ্যমে ইনভেস্ট করেন, সেটা ভালো কিন্তু শুধুমাত্র অবসর প্ল্যানিং এর জন্য ঠিক উপযুক্ত নাও হতে পারে।

 

যেকোন কর্পোরেশনে যদি আপনি শেয়ারে মালিকানা কেনেন তাহলে সেটা হবে আপনার স্টক (Stocks)। আমরা সোজা বাংলায় এটাকে “শেয়ার কেনা” বলে চিনি এবং বাংলাদেশে শেয়ার কেনার একটি ভালো প্রচলনও আছে; কারণ স্টকে সবচেয়ে বেশি এবং দীর্ঘমেয়াদি মুনাফা পাওয়া যায়। তবে স্টকে একটি সমস্যা আছে- আপনি যদি ভালোভাবে বিনয়োগ করতে না পারেন অথবা বাজার যদি মন্দ্যা হয় তাহলে আপনাকে যেকোন ধরনের দুঃসংবাদের জন্য তৈরি থাকতে হবে। তাই যখন আপনি স্টিকে বিনিয়োগ করবেন সেটা একটু চোখ-কান খোলা রেখে এবং হিসাব করে করতে হবে। এই সম্পর্কে আমরা পরবর্তী আর্টিকেল গুলোতে জানবো।

যদি আপনি বন্ডে বিনিয়োগের চিন্তা করে থাকেন তাহলে আমি বলবো সবচেয়ে মজার ব্যপার হবে। এতদিন আমরা জানতাম যে, আমরা সাধারণ মানুষরাই শুধু ব্যাংক থেকে, কোম্পানি থেকে লোন নেবো এরপরে সেই লোনের ইন্টারেস্ট কষ্ট করে পরিশোধ করবো! আর বন্ডে আপনি নিজেই কোন কোম্পানি বা সরকারকে টাকা লোন দেবেন! এরপর সেই লোন এর ইন্টারেস্ট অল্প অল্প করে ফেরত নেবেন! তবে এটা আপনার মাথায় রাখতে হবে যে, স্টকের তুলনায় বন্ড স্বল্প-মেয়াদি এবং কম মুনাফা দেয়। আর এর ভালো দিক হচ্ছে এটি স্টকের তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ।

 

ক্যাশ বা ক্যাশ ইকুইভ্যালেন্ট (ক্যাশের মত বা সমতুল্য) হচ্ছে অনেকটা মানি-মার্কেট ফান্ড (money market fund)- এর মত। এটি সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ তবে মুনাফাও অনেক কম পাওয়া যায়। আরেকটি কথা হচ্ছে আপনি রিটায়ারমেন্টে যাওয়ার আগে রিটায়ারমেন্ট ফান্ডে কিছু কম মুনাফার টাকা দিয়ে কি করবেন? তারপরও ঝুঁকির ব্যপার চিন্তা করলে এই টাকাই আপনার দুর্দিনের সাথী হতে পারে।

 

ভুলে যাবেন না যে, আপনি প্রায় ত্রিশ বছর চলার মত রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান করছেন। এই দীর্ঘ সময়ে আপনার যে পরিমান টাকা প্রয়োজন তার অংকটা কিন্তু নেহাৎ কম নয়। এই অংকে পৌঁছাতে হলে আপনাকে অবশ্যই স্টক-এ বিনিয়োগ করতে হবে। “অবশ্যই” বলাটা বোধহয় ভুল হবে, আমি বলবো আপনার “উচিত” স্টক-এ বিনিয়োগ করা। কিন্তু আগেই তো জানলাম স্টক-এর বিনিয়োগ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ, তাহলে! এই সমস্যার সমাধান কী? সাধারনত মানুষ যেটা করে যে স্টক এবং বন্ডের মিলিত একটি বিনিয়োগ করে। এতে স্টক-এ আপনার যদি কিছু ঝুঁকি থাকেও বন্ডের স্থায়িত্ব এবং কম ঝুঁকি আপনার জন্য একটা সামঞ্জস্য তৈরি করবে।

 

মূল সূত্রঃ time.com/money/2791147/how-to-invest-retirement-money/

ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুলিখনঃ হালিমা-তুস-সাদিয়া

***অবসর জীবনঃ কীভাবে আরো ভালো করে কাটাবেন? (সিরিজ)

আরো পড়ুনঃ

কীভাবে অবসরের জন্য টাকা জমানো শুরু করবো? 

আসলেই কি আমার এত টাকা জমাতে হবে? 

উপার্জন থেকে কত টাকা সঞ্চয় করবো? 

Halima-Tus-Sadia এর ছবি

About the Author

About: 

হালিমা-তুস-সাদিয়া নিজেকে ফ্রিল্যান্স রাইটার, রিসার্চার এবং সোশ্যাল ওয়ার্কার হিসেবে দাবি করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আছেন।