মাস্টারকার্ড ক্রেডিট কার্ড-এর খুঁটিনাঁটি




ক্রেডিট কার্ড যারা ব্যবহার করেন তারা মাস্টার কার্ড এর সাথে অবশ্যই পরিচিত কারণ এটি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রচলিত তিনটি ক্রেডিট কার্ডের একটি। তারপরও একবার মাস্টার কার্ড নিয়ে না বললেই নয়! অনেকের মত আপনারও ধোঁয়াশা ধারণা থাকতেই পারে। তাই আজ জেনে নিন মাস্টার কার্ডের খুঁটিনাঁটিঃ

মাস্টার কার্ড ক্রেডিট কার্ড কী?

আগেই বলেছি মাস্টার কার্ড ক্রেডিট কার্ড পৃথিবীর সবচেয়ে প্রচলিত প্রথম তিনটি ক্রেডিট কার্ডের একটি। এই কার্ড ব্যক্তিগত ব্যবহার অথবা ছোট-মাঝারি-বড় ধরণের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হয়। মাস্টারকার্ড কোম্পানি এই কার্ড এর ট্রানজ্যাকশন নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু ব্যবহারকারীদের জন্য কার্ড ইস্যু করে না। কার্ড ইস্যুর কাজটি বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে হয়।

বাংলাদেশে কোন কোন ব্যাংক মাস্টারকার্ড ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করে তা জানতে ক্লিক করুন এখানে

ব্যাংকগুলোর নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী মাস্টারকার্ড ক্রেডিট কার্ডের সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়। এজন্য প্রতি প্রতিষ্ঠান অনুযায়ীই মাস্টারকার্ড ক্রেডিট কার্ডের সুযোগ সুবিধা আলাদা আলাদা হয়। সুতরাং মাস্টারকার্ড ক্রেডিট কার্ড নেয়ার আগে আসলে আপনাকে কোম্পানিগুলোর অফার সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিতে হবে, এরপরে আপনি নিজের জন্য উপযুক্ত মাস্টার কার্ড ক্রেডিট কার্ড বেছে নিতে পারবেন। ব্যাংকগুলোর অফারের মধ্যে তুলনা করতে এবং নিজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত মাস্টার কার্ড ক্রেডিট কার্ডটি বেছে নিতে ক্লিক করতে পারেন স্মার্ট কম্পেয়ার ক্রেডিট কার্ড কম্প্যারিজন ক্যালকুলেটরে।

সাধারণ কিছু ব্যপারঃ

যদিও কোম্পাই অনুযায়ী মাস্টার কার্ড ক্রেডিট কার্ডের সুযোগ সুবিধা আলাদা হয় তারপরও আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখার জন্য সব মাস্টার কার্ডের সুযোগ সুবিধার মধ্যে রয়েছে কমন কিছু ফিচারঃ

  • মাস্টারকার্ড ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করে এমন যেকোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পণ্য বা সেবা কিনতে পারবেন কার্ডহোল্ডার।

  • বিভিন্ন ধরনের কনজ্যুমারদের আকৃষ্ট করার জন্য মাস্টার কার্ড ক্রেডিট কার্ডে কিছু অতিরিক্ত ফিচার থাকে যেমনঃ ০.০০% অ্যানুয়াল ফী, রিওয়ার্ড, ক্যাশ ব্যাক, সুলভ ইন্টারেস্ট রেট।

  • এছাড়া মাস্টার কার্ড ক্রেডিট কার্ড বিভিন্ন ধরনের কো-ব্র্যান্ডের কার্ডও অফার করে যাতে কার্ডহোল্ডাররা সর্বোচ্চ রিওয়ার্ড পেতে পারে অথবা  বিভিন্ন কোম্পানি থেকে পণ্যের উপর ডিসকাউন্ট পেতে পারে।

  • কার্ডহোল্ডার চাইলে সরাসরি অথবা অনলাইনে পণ্য বা সেবা কিনতে পারেন।

  • ক্রেডিট কার্ড হারিয়ে গেলে বা নকল ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অন্য কেউ ট্রানজ্যাকশন করলে এক্ষেত্রে এধরনের ট্রানজ্যাকশনের জন্য কার্ডহোল্ডার কোনভাবেই দায়ী থাকবেন না।

  • অন্যান্য ক্রেডিট কার্ডহোল্ডারদের মত মাস্টারকার্ড ক্রেডিট কার্ডহোল্ডাররাও অন্যান্য সাধারণ সুবিধাগুলো পেয়ে থাকেন যেমনঃ পণ্যের উপর বর্ধিত ওয়ারেন্টি, দামের নিরাপত্তা।

যে বিষয়টি না জানলেই নয়ঃ

কনজ্যুমার চাইলে সিকিউরড (নিরাপদ) মাস্টার কার্ড ব্যবহার করতে পারেন। এধরনের কার্ড সাধারনত নতুন ব্যবহারকারিদের জন্য অথবা যাদের ঋণের পরিমান অনেক বেশি তাদের জন্য ইস্যু করা হয়। এছাড়া প্রিপেইড মাস্টার কার্ড ক্রেডিট কার্ডও রয়েছে; এসকল কার্ডের ক্ষেত্রে অগ্রীম টাকা জমা দিতে হয়। যারা ক্রেডিট কার্ড নিতে চাচ্ছেন কিন্তু কোম্পানির শর্তপূরণ করতে পারছেন না তাদের জন্য এই প্রিপেইড ক্রেডিট কার্ড খুবই উপকারি। আর অনেকেই আসলে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কেনাকাটা পছন্দ করেন না, তারাও এই প্রিপেইড মাস্টারকার্ড ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন। অনেকক্ষেত্রে উপহার দেয়ার জন্যও এধরনের মাস্টারকার্ড ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা হয়।

 
আরো পড়ুনঃ
Halima-Tus-Sadia এর ছবি

About the Author

About: 

হালিমা-তুস-সাদিয়া নিজেকে ফ্রিল্যান্স রাইটার, রিসার্চার এবং সোশ্যাল ওয়ার্কার হিসেবে দাবি করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আছেন।